বেনারসী তাঁত শিল্পের প্রসার ও তাঁতীদের জীবনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধিনে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড "বেনারসি পল্লী" নামক প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্পের আওতায় সর্বপ্রথম  'মিরপুর বেনারসি পল্লী' গড়ে উঠে এবং এ পল্লী স্বীয় কর্মের দ্বারা তাঁতশিল্পে সাফল্য লাভ করে। দ্বিতীয় যে পল্লীটির উদ্যোগ নেয় তা হল ' ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লী'।  ১৯৯৮ সালে এ প্রকল্পের চিন্তাভাবনা শুরু হলে ১৯৯৮-৯৯ সালে একটি জরিপ কাজ হয়। ২০০০ সালে বেনারসি পল্লী স্থাপনের উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদীর ফতে-মোহাম্মদপুর এডিপির ২ কোটি  ৬ লক্ষ টাকার অর্থায়নে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। পরে ১২ ডিসেম্বর ২০০৪ সালে তা উদ্বোধন করা হয়।  ৫.৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লীতে ২০টি ৫ শতাংশের প্লট এবং ৭০টি ৩ শতাংশের শিল্প প্লট রয়েছে। ৫ শতাংশের প্লটের মূল্য ৭৫২৪২ টাকা এবং ৩ শতাংশ প্লটের মূল্য ৪৫১৪৫ টাকা ধার্য্য করা হয়েছে যা ২৪০ কিস্তিতে সহজ শর্তে পরিশোধযোগ্য। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী প্রতিটি শিল্পপ্লটের নীচতলা কারখানা এবং দোতলায় আবাসিক  লভবন করার কথা৷ কিন্তু তাঁতীদের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তা শিথিল করা হয়। পরে টিনশে্ড ভবনের সামনে কারখানা ও পেছনে আবাসিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন পায়। বেনারসি পল্লীতে পানি, বিদ্যুৎ,  গ্যাস, ওয়াশ-পালিশ,টুইস্ট কারখানা প্রভৃতি যাবতীয় সুযোগ সুবিধার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে শুধু বিদুৎ ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এ পর্যন্ত মাত্র ৫টি প্লট  তাঁত বোর্ডের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে আর ১০ টা প্লটের কিস্তির টাকা পরিশোধিত আছে, সেগুলো যে কোন সময়  যথাযত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। এছাড়া অধিকাংশ প্লটবরাদ্দ প্রাপ্ত মালিকগন প্লট ৩-৪ হাত বদল করেছেন যা তাঁত বোর্ডের প্লট বরাদ্দ শর্তের বহির্ভূত কাজ। খন্দকার ওবাইদুর রহমান জিলানী ঈশ্বরদী  বেনারসি পল্লী প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হওয়ার পরে তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ ইউসুফ আলী,  অতিরিক্ত সচিব স্যারের নির্দেশক্রমে প্লট বরাদ্দ প্রাপ্ত মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত কিস্তির টাকা আদায় করছেন এবং ১৯৯৯ সালে ক্ষুদ্র ঋণের টাকা আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পানল করছেন। ঈশ্বরদী বেনারসি শাড়ির কারিগরদের করোনা ভাইরাসের পরবর্তীতে আগামী রোজার ঈদকে সামনে রেখে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে।  যদিও বেনারসি পল্লীতে মাত্র পাঁচটি কারখানা চালু আছে, তারমধ্যে সিরাজগঞ্জের জামান টেক্সটাইলের একটি কারখানায় প্রায় ২৫ জন শ্রমিক কাজ করেন, এবং ঢাকার নাসিম বেনারসির কারখানায় ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। আর ছোট তিনটাতে কারখানায় ৫-৮ জন কাজ করেন। সঠিক ভাবে বেনারসি শাড়ী উৎপাদন শুরু বাকি সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তাঁত বোর্ড প্রস্তুত আছে। কিন্তু তাঁতীদের ধীরগতিতে বেনারসি পল্লী প্রকল্পের তাঁতশিল্পের পূর্ণবিকাশ বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।